reorder disabled_by_default

যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার মা-বাবাকে কুপিয়ে হত্যা

Update : 20 Jun 2024 - 9:00 AM    |     পঠিত হয়েছে: 16 বার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানীর  যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি বাসা থেকে এক দম্পতির ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) ভোরে যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া এলাকার পশ্চিম মোমেনবাগের আড়াবাড়ি বটতলার বাসাটি থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত হলেন জনতা ব্যাংকের সাবেক গাড়িচালক শফিকুর রহমান (৬০) ও তার স্ত্রী ফরিদা ইয়াসমিন (৫০)।

এই দম্পতির একমাত্র ছেলে ইমন পুলিশের বিশেষ শাখার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) উপপরিদর্শক (এসআই) কর্মরত।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ বলছে, শফিকুর-ফরিদা দম্পতি যাত্রাবাড়ীর পশ্চিম মোমেনবাগের আড়াবাড়ি বটতলায় নতুন একটি চারতলা বাড়ি তৈরি করেছেন। তারা দোতলায় থাকতেন। নিচতলার এক পাশ এবং তিন ও চারতলা ভাড়া দেওয়া।

এই দম্পতির একমাত্র ছেলে পুলিশের বিশেষ শাখার (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) উপপরিদর্শক (এসআই) ইমন ও তার স্ত্রী একই বাসায় মা–বাবার সঙ্গে থাকেন। ইমন বুধবার রাতে ফেনীতে তার দাদাবাড়ি এবং তার স্ত্রী নিজের বাবার বাড়িতে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও বলছে, বৃহস্পতিবার ভোরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা বাসার নিচতলার পার্কিংয়ে শফিকুরের লাশ দেখতে পায়। তার গলা ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। দোতলায় গিয়ে শোবার ঘরে মশারির ভেতর স্ত্রী ফরিদার লাশ পাওয়া যায়। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়।

যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে। শফিকুর নামাজ পড়ে ফেরার সময় ওত পেতে থাকা খুনিরা তাকে প্রথমে হত্যা করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে তারা দোতলায় উঠে তার স্ত্রীকে হত্যা করে। বাসার নিচের প্রধান ফটক ও ঘরের দোতলার দরজা খোলা ছিল। শফিকুরের কাছে বাসার প্রধান ফটকের চাবি পাওয়া গেছে। বাসার পেছনের দেয়াল–লাগোয়া একটি ভবন বেয়ে এই ভবনে ওঠা যায়। বাসার ভাড়াটেরা দাবি করেছেন, তারা কেউ বিষয়টি টের পাননি।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, “এটি ডাকাতির ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা প্রাথমিকভাবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বাসার ভেতর সব আলমারি খোলা পাওয়া গেছে। তিনি আরো বলেন, “নিহত দম্পতির ছেলে ফিরলে তার সঙ্গে কথা বলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অপরাধ শনাক্তকরণ দল আলামত সংগ্রহের কাজ করছে।

এই বিভাগের আরও খবর