reorder disabled_by_default

কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

Update : 21 Jun 2024 - 9:33 AM    |     পঠিত হয়েছে: 11 বার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রাম জেলার প্রধান দুই নদী ধরলা ও তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে হু হু করে বাড়ছে দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও।

জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ডুবে গেছে ফসলি জমি। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকার মানুষ। প্রধান দুই নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অন্যান্য নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, উলিপুর, রৌমারী ও সদর উপজেলার ৭০টি চর-দ্বীপচর ডুবে প্রায় ২২ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এসব এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাসিন্দারা নৌকা ও কলাগাছের ভেলায় করে যাতায়াত করছেন। পানিবন্দি এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে চার দিন ধরে। পানিতে তলিয়ে গেছে ৪৫৩ হেক্টর আবাদি জমির ফসল। পানি বাড়ার কারণে জেলার যাত্রাপুর ইউনিয়ন ও রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের কয়েকটি স্থাপনা ও বাড়ি-ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

সদর উপজেলার শুলকুর বাজারের কৃষক আলাউদ্দিন জানান, তার দুই বিঘা জমিতে পটল আবাদ করেছিলেন। যার সবই পানিতে তলিয়ে গেছে। নাগেশ্বরীর বামনডাঙ্গার ফান্দের চরের বাসিন্দা জোৎস্না বেওয়া জানান, বাড়ির চারপাশে পানি জমে আছে। পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন দু’দিন ধরে। ঠিক মতো খাবারও পাচ্ছেন না।

শুক্রবার (২১জুন) দুপুর ১২ টায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র দেওয়া তথ্য হতে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৫৫ সে.মি. ও ধরলা নদীর পানি তালুক শিমুলবাড়ি পয়েন্টে ১৩ সে.মি. বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে, দুধকুমার নদের পানি পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৪ সে.মি. এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৮ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার ৪৫৩ হেক্টর ফসলি জমি নিমজ্জিত রয়েছে। এর পরিমাণ আরো বাড়তে পারে। কুড়িগ্রাম পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, আগামী ৪৮ ঘন্টা কুড়িগ্রামের নদ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, বন্যা মোকাবেলায় ১৩ লাখ টাকা, ১৩ মেট্রিকটন চাল, ২৫০ বান্ডিল ঢেউটিন, নৌকা ও আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর